সংবাদ

সাঁতরে মসজিদে যাওয়া সেই ইমাম পেলেন নৌকা ও নগদ অর্থ

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার সাইক্লোন কবলিত দুর্গত প্রতাপনগর ইউনিয়নে একটি মসজিদে সাঁতরে যাতায়াতকারী ইমামকে সহায়তা প্রদান করেছে ডু সামথিং ফাউন্ডেশন। ইমামকে আর সাঁতরে মসজিদে যেতে হচ্ছে না। প্রতাপনগর ইউনিয়ন দীর্ঘ কয়েক মাস যাবৎ বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়ে রয়েছে। কয়েকটি গ্রামের মানুষ, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ সকল পথঘাট ও সড়ক প্লাবিত হয়ে যাওয়ায় মসজিদের আশপাশসহ বিস্তীর্ণ এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে।

হাওলাদার বাড়ি জামে মসজিদের একেবার পাশের দু’টিসহ আশপাশের ১৫/২০টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ পানিতে ডুবে রয়েছে । মসজিদে নামাজ চালু রাখতে মসজিদের ইমাম হাফেজ মইনুর ইসলাম প্রতিদিন ৫ ওয়াক্তে ৫ বার পানিতে সাঁতরে মসজিদে গিয়ে আযান ও নামাজ আদায় করে থাকেন। অন্য ওয়াক্তে অনেকে না যেতে পারলেও জুমার দিন অনেক মুসল্লি কষ্ট করে মসজিদে নামাজ আদায় করে থাকেন। কখনো কখনো তিনি মসজিদের ভেতরে থাকেন আবার যখন মসজিদের ভেতরে পানি উঠে যায় তখন মসজিদের ছাদে রাত্রি যাপন করেন। মসজিদের ইমাম সাঁতার দিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে যাওয়া-আসা করেন এমন একটি ভিডিও সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

মানবিক সংগঠন হিউম্যানিটি ফার্স্টের বাস্তবায়নে ডু সামথিং ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ২১ সেপ্টেম্বর ইমাম হাফেজ মইনুর ইসলামের হাতে নগদ অর্থ ও নৌকা তুলে দেওয়া হয়। বেড়িবাঁধ নির্মাণ হলে ঘর নির্মাণ এবং ইমামতির পাশাপাশি বিকল্প কর্মসংস্থান করে দেওয়ার আশ্বাস দেন তারা।

এখবর জেনে এলাকার মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। কেবল ইমামই নন বরং নৌকা ব্যবহার করে কিছু মুসল্লিও নিয়মিত নামাজ আদায় করতে মসজিতে যেতে পারবেন। সংগঠনটি দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবতার সেবায় অবদান রেখেছে।

ভিডিও ধারণকারী প্রভাষক ইদ্রিস আলী বলেন, প্রতাপনগরের অবস্থা ভয়াবহ, দীর্ঘ দিন জোয়ার ভাটার সাথে সাংগ্রাম করছে। দূর থেকে দেখি একজন সাঁতরে আসছে, কৌতুহল বসত তখন ভিডিও করি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের প্রোফাইলে আপলোড দেই, সাথে সাথে ডু সামথিং ফাউন্ডেশন এগিয়ে আসে। পরবর্তীতে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে পাশে দাঁড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন।

Related Articles

Back to top button
error: Content is protected !!